জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বন্ধুত্ব পাতিয়ে প্রতারণার মুখে ২০ জন মহিলা। সবিতা নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরুর বসবেশ্বরনগর থানার পুলিস। তার নামে দায়ের হয়েছে প্রতারণার মামলা। অভিযোগ অনুযায়ী, সে কিটি পার্টির নাম করে ২০ জনেরও বেশি মহিলার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং তারপর তাদের থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা তোলে।
আরও পড়ুন- Abhishek-Sharly: ৩ মাসেই বিয়ে ভাঙছে অভিষেক-শার্লির? ডিভোর্স নোটিসের ঝলক দেখিয়ে অভিনেত্রী লিখলেন…
পুলিস জানিয়েছে, সবিতা এই পার্টির নাম করে ধনী মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রী এম বি পাটিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের কথা বলে তার বন্ধুদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলে। এছাড়াও, সে আমেরিকা থেকে সস্তায় সোনা এনে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জানা যাচ্ছে, প্রতারিতরা ৫০ লাখ থেকে শুরু করে ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত তাকে দিয়েছেন, কিন্তু টাকা আর ফেরত পাননি। সে নানাভাবে ফেরত দেওয়ার কথা বলেও শুধু সময় দিত বলে অভিযোগ।
এর আগে গোবিন্দরাজনগর থানায় সবিতার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। তখনও সে গ্রেফতার হয়েছিল, তবে পরে জামিনে ছাড়া পায়। পুলিস জানিয়েছে, জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরও সে একইভাবে প্রতারণা চালিয়ে যায়, যার ফলে এবার বসবেশ্বরনগর থানার পুলিস তাকে আবার গ্রেফতার করে। একজন অভিযোগকারী, কুসুমা নামে প্রাক্তন শিক্ষিকা এফআইআরে জানান, তিনি প্রায় ৯৫ লাখ টাকা সবিতা ও তাঁর সহযোগীদের হাতে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, লেনদেনগুলোর বেশিরভাগই নগদে হয়েছিল, কোনও আইনি কাগজপত্র ছাড়াই—বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করেই তিনি টাকা দেন।
২০২২ সালের মধ্যে কুসুমা ও তাঁর স্বামী প্রায় ২৪ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন, যার বড় একটি অংশ সবিতার হাতে তুলে দেন। সবিতা নাকি তাঁদের বলে, ‘লর্ড সতীশ জি’র আশীর্বাদে এই টাকা দুই বছরের মধ্যে চারগুণ হয়ে যাবে। এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, কুসুমা সবিতার বাড়িতেই এই টাকা দিয়েছিলেন, যেখানে সবিতার মা কামিনী ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে সব টাকা একা সবিতা নেয়নি। কিছু টাকা আবার সতীশ, শ্রীধর, বাল্মীকা, দর্শন, লোকেশ ও পুনিত নামের কয়েকজন ব্যক্তির কাছেও পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুসুমাকে ‘উদয় টিভি’ নামে এক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যেখানে বিনিয়োগের টাকায় দ্বিগুণ লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি ৩২ লাখ টাকা হাতে পেলেও, সবিতার নির্দেশে এই টাকার বেশিরভাগটাই অন্যদের হাতে চলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বহুবার টাকা ফেরত চাইলেও সাড়া মেলেনি। ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন কুসুমা সবিতার বাড়িতে টাকা চাইতে যান, তখন সবিতা তাঁকে বলে, “আবার যদি আমার বাড়ির কাছে আসো, তাহলে ভূতের মুখ দেখাব।” মোট ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ২.৯৭ লাখ টাকা এখনও পর্যন্ত ফেরত পেয়েছেন বলে কুসুমা জানিয়েছেন। নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

