Operation Sinddor Day 3: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) জবাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে দেওয়া শুরু করেছে ভারত। চলছে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। হামলা পালটা হামলায় ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নৌসেনা আরও শক্তিশালী হল। চলে এল প্রথম দেশীয় অগভীর জলের সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ (Anti-Submarine Warfare Shallow Water Crafts) বা এএসডব্লিউএসডব্লিউসিএস (ASWSWCs) আরনালা (Arnala)।
আরও পড়ুন: শত্রুকে মাঝ আকাশে গুঁড়িয়েছে ‘সুদর্শন চক্র’! রইল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের এ-টু-জেড
খাস কলকাতায় তৈরি আরনালা!
পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে, ভারতের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর নিয়ে এল আরনালাকে। তামিলনাড়ুর কাট্টুপল্লিতে অবস্থিত এলএন্ডটি শিপইয়ার্ডে এসেছে আরনালা। আটটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট তৈরি হচ্ছে। তার প্রথমটি পেয়ে গেল নৌসেনা। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) এবং এলএন্ডটি শিপইয়ার্ডের মধ্যে হওয়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ফসল আরনালা। কলকাতাতেই তৈরি হয়েছে ২৫২ ফুটের এই দানব। যা এখন ভারতীয় নৌবাহিনীর বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ। ভারতে সহযোগিতামূলক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সাফল্যকে প্রতিফলিত করছে আরনালা। এটি ইন্ডিয়ান রেজিস্টার অফ শিপিং (আইআরএস) শ্রেণিবিন্যাস মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই তৈরি হয়েছে।
‘আত্মনির্ভর ভারত’
ডিজেল ইঞ্জিন-ওয়াটারজেটের সংমিশ্রণ তৈরি যুদ্ধজাহাজ আরনালা। মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আরনালা দুর্গের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। সমুদ্রের নীচে নজরদারি, সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সে সক্ষম। নিম্ন তীব্রতার সামুদ্রিক অভিযানের (LIMO) কথা ভেবেই তার নকশা করা হয়েছে। জাহাজটি উপকূলীয় জলে এএসডব্লিউ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম আরনালা পাশাপাশি উন্নত মাইন স্থাপনের ক্ষমতাও রয়েছে তার। আরনালার জন্ম ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এরই এক দুরন্ত মাইলফলক। এই যুদ্ধজাহাজের ৮০ শতাংশ উপকরণই ভারতীয়। ১২ হাজার ৬২২ কোটি টাকার প্রজেক্টে মোট আটটি জাহাজ হবে।
আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরে অভিষেক আত্মঘাতী ড্রোনের! ভারতে তৈরি ‘কামিকাজি’র চমকানো কর্মক্ষমতা
আইএনএস আরনালার বৈশিষ্ট্য:
৭ জন অফিসার এবং ৫৭ জন নাবিক মোতায়েন থাকতে পারে আরনালায়। আরনালার রেঞ্জ ৩৩০০ কিলোমিটার। আরনালা একটি ASW কমব্যাট স্যুট দিয়ে সজ্জিত। যা শত্রুর আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য অস্ত্রের হুঙ্কার করবে এবং তাদের মনিটর করবে। এতে চার ধরণের ব্যবস্থাপনা রয়েছে যা যুদ্ধের সময় আরনালাকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। রকেট, সাবমেরিন-বিরোধী অস্ত্র এবং সমুদ্র মাইন দিয়ে সম্পূর্ণরূপে সজ্জিত। আছে একটি RBU-6000 অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার। এটি একটি ২১৩-মিলিমিটার অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট সিস্টেম যা শত্রু সাবমেরিনগুলিতে দ্রুত পরপর রকেট নিক্ষেপ করতে পারে। ছ’টি ASW টর্পেডো থাকবে। এটি সাবমেরিন-বিরোধী সমুদ্র মাইন বহন করবে। অতিরিক্ত অস্ত্রশস্ত্রও রয়েছে। একটি ৩০-মিলিমিটার CRN-91 নৌ বন্দুক। এই স্বয়ংক্রিয় বন্দুকটি প্রতি মিনিটে ৫৫০টি গুলি নিক্ষেপ করতে পারে। কার্যকরভাবে শত্রু জাহাজগুলিকে ফুঁড়ে দিতে পারে। এর পাল্লা ৪ কিলোমিটার। দুটি OFT ১২.৭-মিলিমিটার M2 স্থিতিশীল রিমোট-নিয়ন্ত্রিত বন্দুকও রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

