জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিরলের মধ্যে বিরলতম বোধহয় এই ঘটনা! ৩০ বছরের এক যুবতী গর্ভবতী! উপসর্গ সবই রয়েছে। কিন্তু আলট্রাসোনোগ্রাফি রিপোর্টে তাঁর জরায়ুতে ভ্রূণের কোনও অস্তিত্ব নেই! এদিকে সে ৩ মাস ধরে প্রেগন্যান্ট। তাহলে? আসলে ৩০ বছরের ওই যুবতীর শরীরে ভ্রূণ বড় হচ্ছে তাঁর লিভারে (liver pregnancy)। অবাক হচ্ছেন? এই বিরল ঘটনা-ই ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে।
জরায়ুর বদলে যকৃতে ভ্রূণ
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা ওই যুবতীর যকৃতে রয়েছে ১২ সপ্তাহের ভ্রূণ। জরায়ুর বদলে যকৃতে গর্ভস্থ সন্তানকে ধারণ করছেন ওই যুবতী। যা দেখে স্তম্ভিত, হতবাক ডাক্তারও। কারণ এই ঘটনা শুধু বিরল নয়, বিরলের মধ্যে বিরলতম (liver pregnancy)। বিশ্বে মাত্র ১৮টি এধরনের ঘটনার রেকর্ড হয়েছে। সাধারণত, এধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি‘ (ectopic pregnancy)।
কী এই ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি‘? (what is ectopic pregnancy)
‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি‘ হল এমন একটি গর্ভাবস্থা, যেখানে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যে স্থাপন না হয়ে, জরায়ুর বাইরে স্থাপিত হয়। মূলত ফ্যালোপিয়ান টিউবে। এধরনের ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’র ক্ষেত্রে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না। ফলে জটিলতা দেখা দেয়। যা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জেরে জীবনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। আর এই ‘লিভার প্রেগন্যান্সি‘ হল ভীষণরকম বিরল ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি’র উদাহরণ।
১২ সপ্তাহের ভ্রূণ যকৃতে!
জানা গিয়েছে, ২ মাস ধরে ওই যুবতীর পেটে ব্যথা হচ্ছিল। সেইসঙ্গে বমি। কনসিভ করলে যা যা উপসর্গ দেখা দেয়, তাই হচ্ছিল ওই যুবতীর। কিন্তু ডাক্তারের কাছে চেক-আপ করাতে গেলে ডাক্তার দেখেন, তাঁর জরায়ু ফাঁকা। সেখানে কোনও ভ্রূণের অস্ত্বিত্ব নেই। এরপর MRI স্ক্যানে ধরা পড়ে ওই যুবতীর ‘একটোপিক প্রেগন্যান্সি‘। দেখা যায়, ওই যুবতীর শরীরে ভ্রূণ জরায়ুতে নয়, বড় হচ্ছে জরায়ুর বাইরে যকৃতে। যকৃতের ‘রাইট লোব‘ বা ডানভাগে। ভ্রূণের হার্টবিট পরীক্ষায় ডাক্তার নিশ্চিত হন যে, ১২ সপ্তাহের গর্ভবতী ওই যুবতী।
বিশ্বে ১৮, ভারতে প্রথম
বিশ্বে মাত্র ১৮টি এধরনের ঘটনার রেকর্ড হয়েছে। আর ভারতের ক্ষেত্রে এটাই প্রথম। এর আগে ভারতে এই বিরলতম ‘লিভার প্রেগন্যান্সি‘–র কোনও রেকর্ড নেই। বুলন্দশহরের বাসিন্দা গৃহবধূ ওই যুবতী ইতিমধ্যেই দুই সন্তানের মা। স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। এই অস্বাভাবিকতা নির্ণয়ের পর ওই যুবতীকে দিল্লি এইমসে রেফার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মায়ের জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সাধারণত এসব ক্ষেত্রে ১৪ সপ্তাহের বেশি এই ধরনের গর্ভাবস্থাকে রাখা হয় না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

