জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিতে আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছে ভারত। আমেরিকা যে হারে ভারতের উপরে শুল্ক চাপিয়েছে তাতে শুধুমাত্র তামিলনাডুতেই তার প্রভাব পড়বে ২০০০০ কারখানার উপরে। কমপক্ষে ৩০ লাখ শ্রমিকের রুজি রোজগার এখনও বিপদের মধ্য়ে। এমনটাই মনে করছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা।
থিরুপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি কুমার দুরাইস্বামী সংবাদমাধ্যমে বলেন, জেলায় রয়েছেন ২৫০০ পোশাক রফতানিকারক। রয়েছে ২০,০০০ পোশাক তৈরির কারখানা। এখানে কাজ করেন ৩০ লাখ শ্রমিক। আমেরিকার বিপুল শুল্ক চাপানোর ফলে ওইসব কারখানা ও ওই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এখন কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
দুরাইস্বামী বলেন, গত বছর আমাদের ব্যবসা হয়েছিল ৪৪,৭৪৪ কোটি টাকার। কোভিডের পরও ওই পরিমাণ ব্যবসা একটি বিরাট সাফল্য। ইউরোপের অর্থনীতিতে মন্দা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের ২০ শতাংশ গ্রোথ হয়েছিল। থিরুপর থেকে পোশাক রফতানি হয় আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপের দেশগুলি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরও ও আফ্রিকার দেশগুলিতে। এদের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গেই বাণিজ্য হয় ৪০ শতাংশ, ইউরোপের বাজারগুলিতে বাণিজ্য হয় ৪০ সথাংশ, ব্রিটেনে হয় ১০ শতাংশ, বাকি দেশগুলিতে বাণিজ্য হয় ১০ শতাংশ। নতুন শুল্কনীতির ফলে সব জায়গার ব্যবসাতেই প্রভাব পড়বে।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে যেসব ব্যবসায়ীরা আমেরিকার বাজারের উপরে নির্ভরশীল তারা প্রবল ধাক্কা খাবে। এখানে যেসব কারখানাগুলি, অন্তর্বাস, বেবিস্যুট, স্লিপউয়ার তৈরি কর েতারা প্রবল সমস্যায় পড়বে।
আরও পড়ুন- পদ্মশ্রী বুলা চৌধুরীর বাড়িতে চুরির কিনারা করে ফেলল পুলিস, উদ্ধার মেডেল…
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি ভারতের অর্থনীতিতে একটি বড় আঘাত হানতে পারে। স্ট্যালিন প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করার এবং তিরুপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিরুপুরের শিল্পপতি এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোও এই পরিস্থিতিতে শঙ্কিত। তারা মনে করছেন, যদি দ্রুত কোনো সমাধান না করা হয়, তাহলে অনেক ছোট এবং মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে, যা হাজার হাজার মানুষকে বেকার করে দেবে। এই সঙ্কট শুধু তিরুপুরের নয়, বরং সমগ্র ভারতের বস্ত্র শিল্পের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

