জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সম্প্রতি প্রেমানন্দ মহারাজের (Premanand Maharaj) কিডনি (kidney) সংক্রান্ত খবর বারবার উঠে আসছে। তাঁর ডায়ালিসিস চলছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মহারাজকে নিজের কিডনিটি দিতে চেয়েছেন। এরই মধ্যে একটি খবরে সাড়া পড়ে গিয়েছে। এক মুসলিম যুবক স্বামী প্রেমানন্দ মহারাজকে নিজের কিডনি অফার করেছিলেন।
আরিফ খান চিস্তি
ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে মানবতাকে তুলে ধরে। মধ্যপ্রদেশের ইতারসি-র আরিফ খান চিস্তি নামে এক মুসলিম যুবক অসুস্থ প্রেমানন্দজি মহারাজকে নিজের একটি কিডনি দান করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মহারাজের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। এর জেরে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ডায়ালিসিসে আছেন। চিস্তি তাঁর কিডনি দান করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে নরমদাপুরম কালেক্টরকে একটি চিঠি লিখেছেন। এই ধরনের মহৎ কাজ এর আগে ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাও করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জীবনযাত্রার কারণে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
ডায়ালিসিসে প্রেমানন্দ
এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রেমানন্দ জি মহারাজের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে এবং তিনি গত কয়েক বছর ধরে ডায়ালিসিসে আছেন। সম্প্রতি, একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল যে ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা প্রেমানন্দ মহারাজকে তার কিডনি দান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে, ফলাহারী মহারাজ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে রাজ কুন্দ্রার জীবনযাপন, যেখানে তিনি মাংস ও মদ গ্রহণ করেন, তা অঙ্গদানের জন্য উপযুক্ত নয়।
প্রস্তুত
প্রসঙ্গত, ইটারসির এই মুসলিম যুবক প্রেমানন্দজি মহারাজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে তিনি নরমদাপুরমের কালেক্টরকে একটি চিঠিও লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি তাঁর কিডনিটি মহারাজকে দান করতে প্রস্তুত। চিঠিতে আরিফ আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতার জন্য এবং প্রয়োজনে যে কোনো ধরনের সাহায্যের জন্য তিনি প্রস্তুত।
মানবতা
খুব স্বাভাবিক ভাবেই এটা নিয়ে দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে। ওই মুসলিম যুবকের এই উদ্যোগে সকলে মুগ্ধ। এখনকার সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার চেতনা কিছুটা কম যেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রেমানন্দজি মহারাজকে কিডনি দিতে চাওয়াটা দারুণ সিদ্ধান্ত। মহারাজের স্বাস্থ্যের এই অবস্থা এবং ওই যুবকের এই প্রস্তাব প্রমাণ করে, মানবতা সব সময় ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বেই অবস্থান করে। এবং মানবতাই সর্বশ্রেষ্ঠ।
আধুনিক সমাজ ও সংকট
প্রেমানন্দ মহারাজের এই আলোচনা-পরামর্শ-উপদেশ এখনকার ভারতের অন্যতম পারিবারিক তথা সামাজিক সমস্যা পেরেন্টিংয়ের উপর আলো ফেলে। অভিভাবকত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে। পরিবারগুলি ক্রমবর্ধমান খরচ, কর্মজীবনের চাপ এবং গৃহকর্মীর উপর নির্ভরতার মতো বিষয়গুলি ক্রমশ বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিশুদের লালন-পালন, তাদের সময়, স্নেহ ও সাহচর্য দেওয়ার মতো বিষয়গুলিকে তুলে ধরে। যা আবার অভিভাবকদের মনে করিয়ে দেয় যে, আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কখনোই পিতামাতার ভালোবাসার উষ্ণতার বিকল্প হতে পারে না।
উদ্বিগ্ন বাবা
তা বর্তমান যুগে অভিভাবকের দায়িত্ব, জীবনের অগ্রাধিকার এবং কর্মজীবন ও সন্তান প্রতিপালনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিয়োটির শুরুতে এক বাবা তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার আড়াই বছরের মেয়ে। আমরা তাকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছি না। এ নিয়ে আমরা ক্রমাগত চিন্তায় থাকি। বিশেষ করে আমার নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এই চিন্তা আরও বেড়েছে!
ভালোবাসা ও মনোযোগ
উদ্বিগ্ন বাবার জবাবে প্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, টাকা-টাকা করে লাভ নেই, টাকার চেয়েও মূল্যবান জিনিস আছে! কেবল টাকা রোজগারের চেয়ে সন্তানের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোর গুরুত্ব জীবনে অনেক বেশি। মহারাজ বলেন, যদি আমরা কারো জন্য টাকা রোজগার করি, কিন্তু তাকেই সময় দিতে না পারি, তাহলে সেই টাকায় কী লাভ? মহারাজ বাবামাকে ভালোবাসা ও তাঁদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কম রোজগারকে এক্ষেত্রে হয়তো একটি ত্যাগ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু সন্তানদের সঠিক পথনির্দেশ, স্নেহ এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
পরিচারিকা নয়, মা
সন্তান লালনপালনের প্রসঙ্গ আসে, আর সেই সূত্রেই মহারাজ বলেন, এই সমস্যাটি অনেক পরিবারেই আছে। মহারাজ জোর দিয়ে বলেন, শিশুর প্রয়োজন মায়ের ভালোবাসা। পরিচারিকার সেবা নয়। তিনি বোঝান যে, পিতামাতার যত্ন অন্য কারো উপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। যদিও তিনি কর্মজীবন ত্যাগ করার কথা বলেননি, তবে তিনি অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালনের জন্য সচেতনভাবে চেষ্টা করার কথা বলেছেন।
ভবিষ্যৎ
প্রেমানন্দজি মহারাজ মানসিক সম্পর্কের বন্ধনকে অবহেলা করার দীর্ঘমেয়াদি খারাপ পরিণতি সম্পর্কেও সমবেত সকলকে সতর্ক করেন সেখানে। তিনি বলেন, যদি আপনি আজ আপনার সন্তানদের ভালোবাসা না দেন, তাহলে কাল যখন তারা বড় হবে, তারাও আপনাকে ভালোবাসা ফিরিয়ে দেবে না। তাদের বড় হয়ে ওঠার সময়ে তারা যদি আপনার কাছ থেকে স্নেহ ও উষ্ণতা না পায়, তাহলে তারা আপনার সঙ্গে পরে আর কোনো আত্মিক টান অনুভব করবে না।
টাকাই সব নয়
এর পরই মহারাজ বলেন, যখন আপনার বার্ধক্য আসবে, তখন যদি আপনি পরিবারের কারও ভালোবাসা পেতে চান, দেখবেন তখন আর আপনি সেটা পাচ্ছেন না! মহারাজ এই বলে শেষ করেন– ‘আমার মতে, টাকা সবকিছু নয়।’
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

