জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেরালার কান্নৌর সেন্ট্রাল (Kannur Central Jail) জেল থেকে পালাল ধর্ষণ ও খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। এই রোমহর্ষক ঘটনার নাটকীয় মোড়। শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ বন্দি পালানোর খবর পায় কেরালা পুলিস (Kerala Police)। জেলের নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির! কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে এক কুয়োর ভেতর থেকে ধরে আবার জেলে পুরল পুলিস। গোবিন্দচামি ওরফে চার্লি টমাস নাম ওই আসামির
কী ভাবে পালাল ওই বন্দি?
জেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত ১টা নাগাদ সে জেল থেকে পালায়। জেল কর্তৃপক্ষের তা নজরে আসে শুক্রবার ভোর ৫টা নাগাদ। তাঁরা পুলিসে খবর দেন এ দিন সকাল সাতটা নাগাদ। জেলেরই একটি সূত্রের দাবি, সংশোধনাগারের অতি উঁচু পাঁচিলের উপরে ইলেকট্রিকের কাঁটাতার জড়ানো রয়েছে। ওই বন্দি যখন পালায় সেই সময় কাঁটাতারে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করা ছিল। সেই সুযোগেই বন্দি পাঁচিল টপকে পালিয়ে যায়।
ভোরে জেলরক্ষীরা দেখেন কান্নুর সংশোধনাগারের ১৫ ফুট দেওয়াল টপকে পালিয়ে যান চার্লি। তাঁর সেল ফাঁকা। শুরু হয় খোঁজ। কয়েক মিনিটের মধ্যে জেল কর্তৃপক্ষ বুঝে যান চার্লি জেল থেকে পালিয়েছেন। তত ক্ষণে বাজিয়ে দেওয়া হয় জেলের অ্যালার্ম। আসামিদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয় নিজেদের সেলে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিসকে। তার পরেই এলাকা জুড়ে চার্লির খোঁজ শুরু হয়। শুধু পুলিস নয়, স্থানীয়েরাও অনুসন্ধানে যোগ দেন।
তাঁর খোঁজে এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে গতিবিধি অনুসরণ করে পুলিস। স্থানীয়দের কেউ কেউ পুলিসকে জানান, কী ভাবে চার্লিকে পালাতে দেখেছেন। শেষে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির কুয়োর মধ্যে থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিস।
নির্যাতিতার মা ক্ষুব্ধ:
জেল পালানোর ঘটনায় মৃত নির্যাতিতার মা কাঠগড়ায় তুলেছেন জেল কর্তৃপক্ষকে। তাঁর মতে, বিশালাকার কান্নৌর জেল থেকে পালানো মোটেই সহজ নয়। এর পিছনে জেলের কর্মীদের হাত রয়েছে। যাদের গাফিলতিতে বন্দি জেল থেকে পালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতা মহিলার মা।
চার্লির অপরাধ:
২০১১ সালে কোচি থেকে শোরানুরগামী ট্রেনে ভ্রমণকারী এক ২৩ বছর বয়সি যুবতীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত চার্লিকে গ্রেফতার করে পুলিস। তিনি একজন প্রতিবন্ধী। হাঁটেন ক্রাচ নিয়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় দক্ষিণ ভারতে ওই রাজ্যে। ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে বিচার হয় অভিযুক্তের। ২০১২ সালে চার্লিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে চার্লি কেরল হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে বহাল থাকে নিম্ন আদালতের রায়ই। পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় তারা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

