জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিহারে (Bihar) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) নিয়ে হওয়া শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) আজ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নথি যাচাই প্রক্রিয়াকে ‘ভোটার বিরোধী’ বলে ধরা যাবে না। দেশের সর্বোচ্চ আদালত যখন কোনও বিষয়ে রায় দেয়, তখন তা কেবল একটি মামলার প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণের পথ খুলে দেয়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ মতামত উঠে এসেছে, যা ভোটারদের অধিকার এবং সরকারি প্রক্রিয়ায় আধার-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিহারের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, যা ‘স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) নামে পরিচিত, তা থেকে আধার বাদ দেওয়ার মামলা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, একটি প্রক্রিয়াকে ভোটার-বান্ধব করার জন্য ‘১১টি নথি ৭টির থেকে ভালো’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে এ দিন সিনিয়র অ্যাডভোকেট অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন, আগে সংশোধনের সময় সাত ধরনের নথি গ্রহণযোগ্য ছিল, কিন্তু SIR-এর ক্ষেত্রে তা বেড়ে হয়েছে ১১টি। বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, ‘আমরা আপনার আধার সংক্রান্ত যুক্তি বুঝতে পারছি। তবে নথির সংখ্যা বাড়ানো আসলে ভোটারবান্ধব পদক্ষেপ, উল্টোটা নয়। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এখন আরও বেশি বিকল্প আছে।’
বিচারপতি সূর্যকান্তও সুর মিলিয়ে বলেন, ‘যদি ১১টি নথি একসঙ্গে চাওয়া হয়, তা অবশ্যই ভোটবিরোধী হবে। কিন্তু যদি যেকোনও একটি দিলেই হয়, তবে…” এক্ষেত্রে সিংভির বক্তব্য, বাস্তবে এই তালিকা গ্রামীণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ‘বর্জনমূলক’। তাঁর কথায়, “যাদের জমি নেই, তাদের জন্য ৫, ৬, ৭ নম্বর বিকল্প নেই। ১ ও ২ নম্বরও কার্যত অচল। আর পাসপোর্ট তো অধিকাংশের কাছেই নেই।” তিনি এও জানান, বিহারের মাত্র ১-২ শতাংশ মানুষের পাসপোর্ট আছে, সংখ্যায় প্রায় ৩৬ লক্ষ।
এদিকে আধার ইস্যুতে মঙ্গলবারের পর্যবেক্ষণের পর বুধবার বিহার ভোটার তালিকা সংশোধন মামলার শুনানিতে ফের আলোচনায় আসে এই বিষয়টি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আধার গ্রহণ না করার যুক্তি আমরা বুঝেছি।’ তবে তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের চাওয়া নথিগুলি মোটের উপর ভোটার-বান্ধব। তিনি জানতে চান, নাগরিকত্ব প্রমাণে কত ধরনের নথি ব্যবহার করা যেতে পারে? এই পর্যবেক্ষণের একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং প্রকল্পে আধার-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিয়ে আইনি বিতর্ক হয়েছে। এই নতুন মন্তব্যটি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে যখন ভোটদানের মতো একটি মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গ আসে, তখন আদালত সবসময় নাগরিকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী। বিহারের এই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি কেবল আইনি সুরক্ষা নয়, বরং নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করবে।
ঘটনার সূত্রপাত বিহারের ‘SIR’ সংক্রান্ত এক মামলায়। এই প্রক্রিয়াটিতে নাগরিকদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের জন্য আধার-কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে আপিল ওঠে যে, আধার বাধ্যতামূলক করলে অনেক যোগ্য নাগরিক, বিশেষত যাদের কাছে আধার নেই বা আধার সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গেলে একটি সহজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি থাকা উচিত। আদালত প্রশ্ন তোলে, কেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি নথিকেই বৈধতা দেওয়া হবে, যখন আরও বেশি বিকল্প নথি গ্রহণ করলে সমাজের বৃহত্তর অংশ উপকৃত হতে পারে?
এই প্রসঙ্গে বিচারপতিরা বলেন, ‘যদি সাতটি নথির পরিবর্তে ১১টি নথিকে বৈধতা দেওয়া হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়াটি আরও বেশি ভোটার-বান্ধব হয়।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, কোনও নাগরিককে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না, শুধুমাত্র তার কাছে নির্দিষ্ট কিছু পরিচয়পত্র নেই বলে। আধার-কে বাধ্যতামূলক করার প্রবণতার বিরুদ্ধে এটি একটি বড়সড় বার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালত মনে করে, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং কোনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা পদ্ধতিগত কঠোরতা সেই অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
এই পর্যবেক্ষণের একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং প্রকল্পে আধার-এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিয়ে আইনি বিতর্ক হয়েছে। এই নতুন মন্তব্যটি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে যখন ভোটদানের মতো একটি মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গ আসে, তখন আদালত সবসময় নাগরিকদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী। বিহারের এই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি কেবল আইনি সুরক্ষা নয়, বরং নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করবে।
আরও পড়ুন: Maharashtra: যেন ব্যোমকেশের গল্প! ছেলে সেজে নিজের বোনের শ্বশুরবাড়ি ডাকাতি তরুণীর, গায়েব দেড় কোটি …
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

